• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম;
মোরেলগঞ্জে সন্ত্রাসের নগ্নরূপ নারী-শিশুকে টার্গেট করে পরিকল্পিত হামলা জমি বিরোধের আড়ালে প্রভাবশালী চক্র? হত্যাচেষ্টা, শ্লীলতাহানি ও লুটপাটে কাঁপছে গ্রাম নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ -সিসিক প্রশাসক সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু এম ইলিয়াস আলী দলের কান্তি লগ্নে সিলেট কে নেতৃত্ব দিয়েছেন – এ্যানি কবিরাজির নামে ভয়ংকর প্রতারণা: সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণ ও ৩ লাখাধিক টাকা আত্মসাৎ টুটুল সভাপতি, জাকারিয়া সম্পাদক শাহ স্পোর্টিং ক্লাব’র বার্ষিক সিলেটে শিশু একাডেমির সনদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “সন্তানরা নৈতিক ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষ হলে ভারতীয় সিএনজি আসছে বাংলাদেশ হচ্ছে যন্ত্রাংশ পরিবর্তন চক্রের এক সদস্য আটক গণরায়ের মুখে রাজনীতি সংস্কার নিয়ন্ত্রণ নাকি সমঝোতার পথ

কবিরাজির নামে ভয়ংকর প্রতারণা: সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণ ও ৩ লাখাধিক টাকা আত্মসাৎ

রিপোর্টারের নাম: / ৭৭ জন দেখেছে
আপডেট : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি:
মোঃ আহসান হাবীব সুমন হয়ে গৌরাঙ্গ বিশ্বাস
শেরপুরে কবিরাজির নামে প্রতারণা করে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩ লাখাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শেরপুরের কাপড় ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমান (পিতা: মোহাম্মদ আলী), গ্রামের বাড়ি কেন্দুয়া, তারাকান্দা, ময়মনসিংহ এবং বর্তমানে শেরপুরের মাধবপুর এলাকায় বসবাসরত, গত ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে শেরপুর সদর থানায় মামলা করেন (মামলা নং-৪২, ধারা ৪২০/৪০৬ পেনাল কোড)।
তিনি অভিযোগ করেন, তার অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া ১৩ বছর বয়সী মেয়ে লুবাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও দেখে মানসিকভাবে প্রভাবিত হয়। এই সুযোগে “খুরশেদ কবিরাজ” নামে এক প্রতারক ইমু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে।
প্রতারক চক্র “কবিরাজ” ও “আল্লাহর দান” নামে একাধিক ইমু আইডি ব্যবহার করে মেয়েটিকে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেয়। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে কবিরাজির ফি, পশু ক্রয়, ধর্মীয় সামগ্রী ও অন্যান্য খরচের কথা বলে ৬ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত বিকাশের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে ১০ মার্চ ঝাড়ফুঁকের কথা বলে কৌশলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় প্রতারকরা।
পরে মেয়েটি আবার টাকা পাঠাতে গেলে বিকাশ দোকানদার তার বয়স কম হওয়ায় অভিভাবককে জানালে পুরো ঘটনা প্রকাশ পায়।
ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনায় পিবিআই জামালপুর ইউনিট তদন্ত শুরু করে। অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে এবং পুলিশ সুপার পংকজ দত্তের সার্বিক দিকনির্দেশনায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর থানার মাওনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোছা মিয়া (২৯) ও রফিকুল ইসলাম (২৮) নামে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকা থেকে মূলহোতা মনির হোসেন (২১) কে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মনির হোসেনকে নিয়ে তার বাড়ির পাশের বাগানে অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে প্রায় ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা।
তদন্তে জানা গেছে, প্রতারক চক্রটি ইমু অ্যাপ ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে টার্গেট করে ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানের কথা বলে প্রতারণা করে আসছিল।
এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ