• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম;
মোরেলগঞ্জে সন্ত্রাসের নগ্নরূপ নারী-শিশুকে টার্গেট করে পরিকল্পিত হামলা জমি বিরোধের আড়ালে প্রভাবশালী চক্র? হত্যাচেষ্টা, শ্লীলতাহানি ও লুটপাটে কাঁপছে গ্রাম নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ -সিসিক প্রশাসক সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু এম ইলিয়াস আলী দলের কান্তি লগ্নে সিলেট কে নেতৃত্ব দিয়েছেন – এ্যানি কবিরাজির নামে ভয়ংকর প্রতারণা: সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণ ও ৩ লাখাধিক টাকা আত্মসাৎ টুটুল সভাপতি, জাকারিয়া সম্পাদক শাহ স্পোর্টিং ক্লাব’র বার্ষিক সিলেটে শিশু একাডেমির সনদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “সন্তানরা নৈতিক ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষ হলে ভারতীয় সিএনজি আসছে বাংলাদেশ হচ্ছে যন্ত্রাংশ পরিবর্তন চক্রের এক সদস্য আটক গণরায়ের মুখে রাজনীতি সংস্কার নিয়ন্ত্রণ নাকি সমঝোতার পথ

গণরায়ের মুখে রাজনীতি সংস্কার নিয়ন্ত্রণ নাকি সমঝোতার পথ

রিপোর্টারের নাম: / ৯৭ জন দেখেছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

গণরায়ের মুখে রাজনীতি সংস্কার নিয়ন্ত্রণ নাকি সমঝোতার প

‎সংবাদ প্রতিবেদক: কাজল ইব্রাহিম
‎দেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর গণরায় বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। জনগণ একই তফসিলের অধীনে জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে রায় দিলে ও বিএনপি সরকার সেই গণরায় উপেক্ষা করে সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করে এবং পরবর্তীতে কেবল সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সীমিত সংশোধনের পথে এগোয়।

‎বিরোধী দলের ভাষায় এটি জন আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নয়, বরং একটি নিয়ন্ত্রিত ও আংশিক উদ্যোগ। এখানে মূল প্রশ্ন উঠছে-গণরায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন কি নিশ্চিত হয়েছে? সরকার বলছে, স্থিতিশীলতার স্বার্থে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়াই বাস্তব সম্মত! অন্যদিকে বিরোধীদল বলছে-এটি জনগণের সরাসরি মতামতের আংশিক প্রতিফলন, পূর্ণ নয়!

‎বিরোধীদলের অভিযোগ-সরকার গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করে জনগণের হ্যাঁ ভোটকে অকার্যকর করতে চায়, গুম ও মানবাধিকার সংক্রান্ত কাঠামো দুর্বল করে দমননীতির সুযোগ রাখছে, দুদকসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে নির্বাহী নিয়ন্ত্রণে এনে জবাবদিহি কমাচ্ছে, বিচার বিভাগে প্রভাব বিস্তার এবং পুলিশ ব্যবস্থাকে দলীয় করণের মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রী করণ জোরদার করছে।

‎ পাশাপাশি ব্যাংক খাত ও অর্থনৈতিক কাঠামোতেও নিয়ন্ত্রণ মূলক অবস্থান ধরে রেখে লুটপাট ও অর্থপাচারের সুযোগ তৈরি করছে-অর্থাৎ তাদের রাষ্ট্র দৃষ্টি ভঙ্গি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ভিত্তিক একটি ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে প্রশ্ন-এই অভিযোগ গুলো কতটা বাস্তব, আর কতটা রাজনৈতিক অবস্থান? একপক্ষের দৃষ্টিতে এটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর সংকোচন, অন্যপক্ষের দৃষ্টিতে এটি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা!

‎অন্যদিকে বিরোধীদল নিজেদের অবস্থানকে গণভোটের সরাসরি প্রতিফলন দাবি করে বলছে-তাদের লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ইনসাফ ভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গড়া, যা কেবল আংশিক সংশোধনে নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে সম্ভব। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে এবং একটি ভার সাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলছে। প্রশ্ন-পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কি বর্তমান বাস্তবতায় সম্ভব? সম্ভব, তবে তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক আস্থা, অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সমঝোতা!

‎তাদের প্রস্তাবে রয়েছে-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ সীমাবদ্ধ করা, এক ব্যক্তির হাতে দল-সরকার-সংসদের নেতৃত্ব একত্রে না রাখা, নির্বাচন কমিশন-দুদক-পিএসসিতে স্বচ্ছ নিয়োগ, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও আলাদা সচিবালয়, মানবাধিকার রক্ষায় শক্তিশালী কমিশন এবং গুম-বিচার বহির্ভূত হত্যার অবসান।

‎এখানে প্রশ্ন-এই প্রস্তাব গুলো কি কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, নাকি বাস্তবায়ন যোগ্য রূপরেখা? যদি সঠিক নীতি, স্বচ্ছতা ও সম্মিলিত প্রয়াস থাকে, তবে এগুলো বাস্তবায়ন যোগ্য রূপ নিতে পারে! নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এনসিবি দলের বক্তব্য ঘিরে। তারা বলছে, গণভোটের রায় অমান্য করে জনগণের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং জনগণের ক্ষমতা ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

‎পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে-নিজেদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হতে, সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে। প্রশ্ন-এই আহ্বান কি আন্দোলনের ইঙ্গিত, নাকি সচেতনতার ডাক? এটি যেমন রাজনৈতিক অবস্থান, তেমনি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে!

‎আরও বলা হচ্ছে-সংসদীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগণের পবিত্র রায়কে অবজ্ঞা করা হচ্ছে এবং সরকারের এই অবস্থান দেশকে সম্ভাব্য সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশ্ন-সংঘাত কি অনিবার্য? না, সংলাপ, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেকোনো সংকট সমাধান সম্ভব!

‎সবশেষে প্রশ্ন দাঁড়ায়-দেশ কোন পথে যাবে?
‎সংশোধন হোক বা পূর্ণ সংস্কার, মূল বিষয় হওয়া উচিত জনগণের মতামতের সম্মান, জবাবদিহি নিশ্চিত করণ এবং একটি ভার সাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সব দলের অংশগ্রহণ থাকবে এবং দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার ও মর্যাদায় নিরাপদ অনুভব করবে। এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় বার্তা বিভাজন নয়-প্রয়োজন সমঝোতা বিরোধ নয়-প্রয়োজন অংশগ্রহণ,আর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয় প্রয়োজন জনগণের আস্থার ভিত্তিতে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ