• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩২ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম;
এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক পদস্খলনের ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবাসহ চিহ্নিত আলীনগর ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনদাবি বাস্তবায়নে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে জুড়ীতে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ হাসিনা গ্রেফতার মাদ্রাসার জন্য গরু কেনার নামে প্রতারণার অভিযোগ আলহামদুলিল্লাহ! নিখোঁজ দুই সন্তান নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরেছে মোরেলগঞ্জে সন্ত্রাসের নগ্নরূপ নারী-শিশুকে টার্গেট করে পরিকল্পিত হামলা জমি বিরোধের আড়ালে প্রভাবশালী চক্র? হত্যাচেষ্টা, শ্লীলতাহানি ও লুটপাটে কাঁপছে গ্রাম নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ -সিসিক প্রশাসক সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু

শিক্ষক-শিক্ষার্থীহীন বিদ্যালয় মাদারগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষায় ভয়াবহ অনিয়ম ভেঙে পড়ছে শিক্ষাব্যবস্থার ভিত

রিপোর্টারের নাম: / ৯৪ জন দেখেছে
আপডেট : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬


‎বিডি টপ টেন
ওয়াজেদ নয়ন জামালপুর প্রতিনিধি

‎জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার ৬ নং আদারভিটা ইউনিয়নের আওতাধীন ১০২ নং পূর্ব বাজিতের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম অনিয়ম, দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনিক শৈথিল্যের এক উদ্বেগজনক চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। ১৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, দুপুর আনুমানিক ১:৩০ মিনিটে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে দেখা যায়—প্রধান শিক্ষকসহ কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। দীর্ঘক্ষণ অনুসন্ধান চালিয়েও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, শ্রেণিকক্ষগুলো তালাবদ্ধ, পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির।

‎এ সময় সহকারী শিক্ষিকা সেলিনাকে পাওয়া গেলে তার নিকট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাওয়া হয়। তিনি জানান, সবাই নাকি দুপুরের খাবারে গেছেন। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীরা কোথায়? তাদের তদারকি কোথায়? বিদ্যালয় ফাঁকা রেখে এমন অবহেলার দায় কে নেবে? বিষয়টি পরিষ্কার করতে প্রধান শিক্ষকের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি, পরবর্তীতে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এটি কি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল নয়?

প্রধান শিক্ষক আঃ গফুর, ও কল্পনা বেগম,রবিউল, মমতাজ, সেলিনা, সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ একজন বৃত্তি পরীক্ষার কক্ষে দায়িত্ব পালন করতে গেছেন। কিন্তু সব শিক্ষক কি একযোগে পরীক্ষার হলে গিয়েছেন? তাহলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে কে? এই প্রশ্নগুলোর কোনো গ্রহণযোগ্য, যুক্তিসংগত উত্তর পাওয়া যায়নি।

‎বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অব্যবস্থাপনার আরও চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে—শ্রেণিকক্ষগুলো তালাবদ্ধ, কোথাও পাঠদানের কোনো চিহ্ন নেই, এমনকি প্রাঙ্গণে অবাধে গবাদিপশুর বিচরণও লক্ষ্য করা গেছে। এটি কি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ? নাকি দায়িত্বহীনতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ? এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

‎এ ধরনের চরম অবহেলা ও শৃঙ্খলাভঙ্গ কেবল একটি বিদ্যালয়ের সীমাবদ্ধ সমস্যা নয়, এটি সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থার ভিতকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে। শিক্ষকরা যদি দায়িত্বশীল না হন, তবে শিক্ষার্থীরা কোন আদর্শে গড়ে উঠবে? আইন-শৃঙ্খলা ও নিয়ম-কানুনের অভাবে শিক্ষার্থীরা বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে—এমন উদ্বেগজনক তথ্যও উঠে আসছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এভাবে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে—এর দায়ভার কে নেবে?

‎সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেও দায়িত্ব পালনে গাফিলতি কি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য? এ ধরনের অনিয়ম কি শাস্তির আওতায় আসবে না? অন্যায়ের সাথে আপোষ করলে কি শিক্ষাব্যবস্থা টিকে থাকবে? এসব প্রশ্ন আজ জনমনে তীব্রভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

‎স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী শিক্ষা অফিসার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান—এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিন, নতুবা এ ধরনের অনিয়ম সারাদেশে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ