নিজস্ব প্রতিনিধ
ফেনীতে চুরির ঘটনায় মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিলের পর আদালতের সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এক আসামিকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, চোর চক্রের সদস্য, সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানা পুলিশের প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টার দিকে ফেনী কেন্দ্রীয় জয়কালী মন্দিরে পূজা দিতে যান এক নারী। মন্দিরে প্রবেশের পর আসামি মো. সাগর মিয়া (২৪) কৌশলে ওই নারীর পেছন থেকে টান দিয়ে তাঁর গলায় থাকা ছয় আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে পালিয়ে যান। চেইনটির আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৮ হাজার টাকা।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ফেনী মডেল থানা পুলিশ দ্রুত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়।
পরে বিজ্ঞ আদালত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। রায়ে আসামি মো. সাগর মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসামির সাজা নিশ্চিত হওয়া এবং চুরি যাওয়া স্বর্ণের চেইন বাদীর কাছে ফেরত দিতে পারায় ভুক্তভোগী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ফেনী মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য, সাজাপ্রাপ্ত এবং বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশের প্রকাশিত তথ্যে আরও জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে হানি ট্র্যাপ চক্রের দুই নারী সদস্য, গণধর্ষণ মামলার আসামি, সাজাপ্রাপ্ত ডাকাত এবং বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামিও রয়েছেন।
ফেনী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার বিভিন্ন মাদক স্পট ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ অভিযানও চলমান থাকবে।