নিজস্ব প্রতিবেদক, সুহেল রানা:
কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি ডেন্টাল চেম্বারে দীর্ঘদিন ধরে দাঁতের চিকিৎসা দিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে মোঃ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। চেম্বারের প্রচারপত্রে তাকে ‘দাঁত চিকিৎসক’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তবে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত পরিচয় ও রোগী দেখার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন যাচাইয়ের দাবি অনুযায়ী, হাফিজুর রহমানের ব্যবহৃত যোগ্যতাটি ডেন্টাল সার্জন হিসেবে রোগী দেখার স্বীকৃত বিডিএস (BDS) ডিগ্রি নয়; বরং ডেন্টাল টেকনোলজি/মেডিকেল টেকনোলজি-সংশ্লিষ্ট ডিপ্লোমা বলে দাবি করা হচ্ছে। তার প্রচারপত্রে ব্যবহৃত পরিচয় ও যোগ্যতার বিষয়টিও তাই যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে। ২৪ জুন ২০২৬ আপিল বিভাগ ডেন্টাল টেকনোলজি ডিপ্লোমাধারীদের স্বাধীনভাবে রোগী পরীক্ষা, নিজস্ব চেম্বার পরিচালনা ও ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অনুমতি-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছে। প্রকাশিত আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনের অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন; স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ নেই। �
The Daily Star +2
বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২২ ধারায় নিবন্ধন ছাড়া ডেন্টাল চিকিৎসা করা বা নিজেকে ডেন্টাল চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। একই আইনের ২৯ ধারায় স্বীকৃত যোগ্যতা ছাড়া ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহারের বিষয়েও বিধিনিষেধ রয়েছে। �
BD Laws +1
আইনের ২৮ ধারায় প্রতারণামূলকভাবে নিজেকে স্বীকৃত ডেন্টাল চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপনের জন্য শাস্তির বিধানও রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে এসব ধারা প্রযোজ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারণযোগ্য। �
BD Laws
স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে যদি একজন ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট ‘দাঁত চিকিৎসক’ পরিচয়ে স্বাধীনভাবে রোগী দেখে থাকেন, তাহলে তার চেম্বারে চিকিৎসা প্রদানের বৈধতা কী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কীভাবে দেখছে?
এ বিষয়ে তার শিক্ষাগত সনদ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন এবং চেম্বারে রোগী দেখার অনুমোদন যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
তবে মোঃ হাফিজুর রহমানের ডিগ্রি জাল বা ভুয়া—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের লিখিত যাচাই এবং তার বক্তব্য প্রকাশ করা জরুরি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।