
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেসে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ দেখা গেছে। নির্ধারিত আসনের পাশাপাশি ট্রেনের বিভিন্ন বগিতে অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে দেখা যায়।
বুধবার বিকেলে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে সিলেটগামী যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ট্রেনটি বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ট্রেন ছাড়ার আগে প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের মধ্যে ছিল ব্যস্ততা ও অপেক্ষার দৃশ্য।
ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পর বিভিন্ন বগিতে দেখা যায় যাত্রীদের ভিড়। অনেক যাত্রী আসন না পেয়ে বগির ভেতরে দাঁড়িয়ে যাত্রা করছেন। কেউ কেউ দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। ঢাকা থেকে সিলেটের পথ দীর্ঘ হওয়ায় এভাবে দাঁড়িয়ে যাত্রা করা অনেকের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাওয়ায় তাদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি নিয়ে অন্য যাত্রীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে যাত্রীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার চিত্রও দেখা গেছে। অনেকেই নারী, শিশু ও বয়স্কদের বসার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
যাত্রীদের কয়েকজন জানান, ঢাকা-সিলেট রুটে মানুষের যাতায়াত বেশি থাকায় বিভিন্ন সময়ে ট্রেনে যাত্রীদের চাপ তৈরি হয়। ছুটির দিন বা বিশেষ সময়ে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। ফলে যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হলে দীর্ঘ পথের যাত্রা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে বলে মনে করেন তারা।
এক যাত্রী বলেন, “ঢাকা থেকে সিলেট অনেক দীর্ঘ পথ। দাঁড়িয়ে যাওয়া কষ্টকর হলেও গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য আমরা যাত্রা করছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিষয়টি বিবেচনা করলে ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।”
আরেক যাত্রী জানান, ট্রেনে যাত্রা করতে গিয়ে মানুষের ভিড় থাকা স্বাভাবিক। তবে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের সুবিধার জন্য আসন ও যাত্রীসেবার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।
যাত্রীরা জানান, রেলপথে যাতায়াত সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবহন ব্যবস্থা। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি যাত্রীদেরও নিয়ম-কানুন মেনে চলা এবং একে অপরকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
কালনী এক্সপ্রেসে যাত্রীদের এমন ভিড়ের কারণে অনেকেই দীর্ঘ পথ দাঁড়িয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন। যাত্রীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যাত্রীসংখ্যা ও চাহিদা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ঢাকা-সিলেট রুটে যাত্রা আরও আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।